Post

Bandarban - বান্দরবান ভ্রমণ।

Bandarban - বান্দরবান ভ্রমণ।

ভ্রমণটি ছিল এপ্রিলে মাসের এর শেষের দিকে!!

ভ্রমনের দর্শনিয় স্থান গুলোঃ

❤শৈলপ্রপাত

❤চিম্বুক পাহাড়

❤নীলগিরি

❤থানচি

❤বড় পাথরের দেশ তিন্দু

❤রেমাক্রি

❤নাফাখুম।

Image 1

ট্যুরের জন্য আগ্রহী হয়েছিলাম অনেক আগে থেকে বান্দরবানের রিভিউ দেখে আর নিজেদের ইচ্ছাশক্তির জোরে।আমারা ট্যুর মেম্বার ছিলাম চার জন।

তো শুরু করা যাকঃ

মুগদা ইউনিক কাউন্টার থেকে চারটা টিকিট ক্রয় করে যাত্রা শুরু করলাম বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে। বান্দরবান নামার পর যখন আমরা গাড়ি নিয়ে থানচির উদ্দেশে রউনা হলাম দেখলাম আমাদের গাড়িটা শুধু উপরের দিকে উঠছে । কিছুদূর যাবার পর লক্ষ করলাম আমরা পাহাড়ের অনেক উপরে ,সাইড থেকে শুধু পাহাড় আর পাহাড় দেখা যাচ্ছে যদিও অনেক ভয়ংকর কারণ পাহাড়ের রাস্তার দু পাশে খালি শুধু রাস্তা বেয়ে চলেছে এ পাহাড় থেকে ঐপাহাড় একটি এনভেঞ্চার মুহূর্ত।যা কখনো ভোলার মতো নয়। যাত্রাপথে আমাদের দু থেকে তিনবার বাংলাদেশ আর্মি এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর থেকে আমাদের নাম রেজিস্টার্ড খাতায় উঠিয়ে নিলাম তারা আমার নাম ঠিকানা রেখে দিলো। বিজিবি আমাদের আইডি কার্ড দেখলো এবং আইডি কার্ডের ফটোকপি গুলো জমা রাখলো। কিছু দূর পর চিম্বুক পাহাড়ে এসে পৌঁছলাম। ঢোকার জন্য টিকিট নিতে হবে টিকিট নিয়ে ঢুকে গেলাম ভিতরে। ভিতরটা অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে মেঘের উপরেও এতো সুন্দর জায়গা আছে ভাবাই জায় না। চিম্বুকের বুকে দাঁড়িয়ে যা দেখলাম তা ভাষায় না বলি এক কথায় সোবহান-আল্লাহ...।। আল্লাহ্‌ তায়লার অপরূপ সৃষ্টি । সেখান থেকে মনে হচ্ছে আমি সমগ্র পৃথিবী টাকে দেখছি। পাহাড় গুলোকে অনেক ছোট লাগছিল আর আমরা মেঘের উপরে দাঁড়িয়ে আছি ।বাতাস এতো ঠাণ্ডা বলার মতো না । যাই হোক সেখানে কিছুটা সময় অবস্থান করে বেড়িয়ে গেলাম বাহিরে ।বাহিরে এসে আবার কোন এক সেনাবাহিনীদের অধীনে করা রেস্টুরেন্ট থেকে খেলাম খিচুড়ি এক কথায় জোস।যাই হোক খাওয়া দাওয়া করে চলে এলাম নীলগিরি । নীলগিরির আকাশ টা আসলেই অনেক নীল। রাস্তা গুলো এতো পরিস্কার ঢাকায় বাস করে আমরা সচার আঁচর দেখি না। নীলগিরি দেখে আবার ছুটে চলা পাহাড়ের চুড়া বেয়ে দেখতে দেখতে চলে এলাম থানচি। সেখান থেকে দুপুরের ভাত খেয়ে বিজিবির সহায়তায় একটি নৌকা ভাড়া করলাম । অবশ্য কিছুক্ষন রেস্ট নিলাম সাথে সাথে থানচি বাজার মসজিদ থেকে যোহরের নামায টা পরে নিলাম। পরে সেখান থেকে পানি এবং কিছু খাবার সামগ্রি নিলাম । নৌকায় উঠে বসলাম।নৌকা চলা শুরু হলো রেমাক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে । দূর্বার গতিতে ছুটে চলছে আমাদের নৌকা সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে আর দু পাশেই রয়েছে বিশাল বিশাল পাহাড়। পানি কম হোলেও স্রোত ছিল বেশ। প্রায় এক ঘন্টা ১০ মিনিট চলার পর এসেপরলাম তিন্দু । যেখানে রয়েছে ছোট,বড় এবং মাঝারি আকারের অনেক পাঁথর । এই পাঁথর গূলোই হাত ছানি দেয় অপরূপ সৌন্দর্যের যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। দুপাশে সারিসারি পাহাড় মাঝখানে নদী আর পাঁথরের গলাগলি ভীষণ মুগ্ধ করে তৈরী হয় একটি এডভেঞ্চার পরিবেশ। আর যারা এডভেঞ্চার পিয়াসী তাদের জন্য এক কথায় এটি একটি দারুণ জায়গা। একবার এলে আর ফিরে জেতে ইচ্ছা করবে না । পৃথিবীর কোথাও এমন দৃশ্য আছে কিনা এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আর আমাদের অগোচরে বিজিবির চোখ সর্বদাই থাকছে আমাদের দিকে পাহাড়ের ওপর থেকে যেন আমাদের কোন ক্ষতি না হয়।সেখানে নৌকা ভিড়িয়ে কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে আবার রউনা দিলাম রেমাক্রির উদ্দেশে । স্রোতের বিপরীতে চলছে আমাদের নৌকা। একপর্যায় আমরা রেমাক্রি এসে পৌছোলাম। যাই হোক অনেক হয়েছে জার্নি এখন সেখানে যাবার সাথে সাথে বেশ ভালো একটি কটেজ পেলাম প্রচন্ড টায়ার্ড ছিলাম তাই গোসল করে শুলাম আর ঘুমিয়ে গেলাম সন্ধ্যার আগে আমার ঘুম ভাঙ্গে । রাতে ৮ টার দিকে পাহাড়িদের বাড়িতে খেলাম যা আগে থেকে অর্ডার করে রাখতে হয়।বেশ মজা ওদের রান্না।খাওয়া দাওয়া করে কটেজে এসে ঘুমিয়ে গেলাম ।ভোড়ে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং গাইড এর সাথে বেড়িয়ে পরি নাফাখুম এর উদ্দেশে। সেখান থেকে আগে কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিলাম আর গ্লেক্সোস ডি পানিতে মিশিয়ে নিলাম। শুরু করলাম হাটা । এই অভিজ্ঞতা ভোলার না এই এডভেঞ্চার ভোলার না । জীবন টাকে ধন্য মনে করছি । অনেক জংগল নদী পেরিয়ে বিভিন্ন ভয়ংকর জায়গা পারি দিয়ে কোথাও কোথাও ৫ মিনিট কিংবা ১০ মিনিট রেস্ট নিয়ে অনেক বাধা আর ক্লান্তি পেরিয়ে দীর্ঘ ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট হেটে চলে এলাম আমাদের সেই স্বপ্নের কাছে ।সেই নাফাখুমে যার রিভিউ এতো দিন দেখেছি যার ভিডিও ইউটিউবে দেখেছি আজ আমরাও এসেছি আমরাও পারি।যাই হোক কিছুক্ষন পানিতে দাপাদাপি করে ঠিক আগের মতো ফেরত আসলাম রেমাক্রি । সেখান থেকে থানচি নৌকায়। এর পর সেখান থেকে চান্দের গাড়িতে বান্দরবান। চান্দের গাড়ির অভিজ্ঞতাও ছিল অন্যরকম । এমন জোড়ে চলে কলিজায় পানি থাকে না । দুর্বল চিত্তের মানুষ হার্ট এটাক করতে পারে নিচের দিকে তাকিয়ে । মেঘ এসে যখন স্পর্শ করছিল তখন ফিলিংস টা পুরাই অস্থির। দেখতে দেখতে চলে এলাম বান্দরবান।

আর এর মাঝেই শেষ হলো আমাদের বান্দরবান ভ্রমন ২০১৮।

Image

Better View : https://youtu.be/ZLgC-uyFDhM

খরচ:

১.ঢাকা থেকে বান্দরবান বাস ভাড়া নন এসি ৬২০ টাকা এবং এসি ১২০০-১৬০০ টাকা অথবা ট্রেনে নন এসি শোভন চেয়ার চিটাগাং এর ভাড়া ৩৫০ টাকা সেখান থেকে ভেঙে বান্দরবান যেতে খরচ হবে ১৪০ টাকা পার হেড।

২.বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়ির ভাড়া পড়েছিল আমাদের ১২০০ টাকা তবে সিজনে অনেক ৪০০০ - ৮০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। অথবা বাসে যেতে পারেন ভাড়া পরবে একজনের ২০০ টাকা।

৩.সকালে ভাড়ি খাবার এর জন্য আর্মি রেস্টুরেন্ট খিচুড়ীটা জোস। হাফ ৫০ এবং ফুল ১০০ টাকা।

৪.চিম্বুক এর এন্ট্রিফি ২০ টাকা এবং নীলগিরি ৬০ টাকা।

৫.থানচি দুপুরের খাবার আলুভর্তা ডিম এবং ভাত সব মিলিয়ে ৫০। যেই আলুভর্তা দেয় তা দুইজন খেতে পারবে।

৬.থানচি থেকে বিজিবি নৌকা ভাড়া এবং গাইড ৫০০০ টাকা।

৭.কটেজ ভাড়া ১৫০ টাকা প্রতি একজনের জন্য।

৮.রাতের খাবার ডিম,আলুভর্তা, ডাল এবং ভাত আনলিমিটেড ১০০-১২০ এবং মুরগির গোস্ত দিয়ে ১৫০ টাকা। (মসুলমান হলে মুরগি খেতে চাইলে নিজেরা জবাই দিন)

৯.সকালের নাস্তা ৩৫ টাকা পাহাড়িদের হোটেল থেকে।

১০। ফেরার সময় থানচিতে দুপুরের খাবার ৪৫ টাকা।(আলুভর্তা,আলুভাজি এবং ডিম তবে ২০ টাকার আলুভর্তা এবং আলুভাজি দিয়ে দু থেকে তিনজন ইজিলি খেতে পারবেন)

১১। প্রচন্ড জ্যাম থাকায় ট্রেনে গিয়েছিলাম সেক্ষেত্রে আমাদের খরচ হয়েছিল মাত্র ৪৯০ টাকা ( বান্দরবান থেকে চট্রগ্রাম এবং সেখান থেকে সিএনজি করে চট্রগ্রাম রেলস্টেশনে এবং সেখান থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস এর চারটি টিকিট ক্রয় করে সোজা ঢাকা এবং একেকটি টিকিট এর মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা শোভন চেয়ার)

১২। ট্রেণ রাত ১১ টায় থাকায় আমরা রাতের খাবার স্টেশনের বাইরে একটা ভালোমানের রেস্টুরেন্ট থেকে সেরে নিলাম। রেস্টুরেন্ট এর নাম ছিল প্যারামাউন্টেন ইন্টারন্যাশনাল। একেক জন চিকেন রোস্ট সাথে গরুর কালাভূনা দিয়ে খেয়েছিল সেখানে একেক জনের ভাগে খরচ হয়েছিল ১৮০ টাকা করে।

১৩.দরকারি ঐষধ এবং অডোমস ক্রিম ঢাকা থেকে নিয়ে যান।

১৪.এক এক জনের খরচ হয়েছিল ৩৭০০ টাকা করে।(চার জনের টিম)

নিজের কিছু কথাঃ

#আর্মি এবং বিজিবির কাছ থেকে যথেস্ট বিনয়ী ব্যবহার এবং অনেক সুন্দর ব্যবহার পেয়েছি। তাই স্যালুট আপনাদের ঐ সমস্ত এলাকাতেও আমাদের নিরাপত্তা দেবার জন্য।

#এখানে যে রিভিউ দিলাম তা আমার ব্যক্তিগত ফিলিংস থেকে দিয়েছি দয়া করে আমার রিভিউ আপনাদের কাছে বিরক্ত লাগলে এড়িয়ে যান তবুও হাসি তামাশা করবেন না অনুরোধ রইলো।

#পাহাড়ের কোনায় দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলবেন না। যেসব জায়গায় বাউন্ডারি নেই।

#আর্মি কিংবা বিজিবিকে ভিডিও করবেন না এবং তাদের সাথে নম্রস্বভাব নিয়ে কথা বলুন।

#সাথে অবশ্যই আইডিকার্ড কিংবা জন্মসনদ রাখবেন।

#তিন্দু যাবার পর কেও রাজা পাথর কিংবা রানি পাথর নিয়ে পরিহাস করবেন না করলে নৌকার মাঝিরা খুব রাগ করে। কারণ তারা পাথর গুলোকে অনেক মানে।

#লাইফ জ্যাকেট ভালো দেখে ভাড়া করবেন আমি বাজে একটা লাইফ জ্যাকেট নিয়েছিলাম তাই নাফাখুমে উপর থেকে যখন পানিতে লাফ দিয়েছিলাম তখন জ্যাকেট আমার মাথার উপর উঠে গিয়েছিল এবং আমার নিশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল।

#ট্রাকিং এর সময় অনেক ডেঞ্জার পয়েন্ট পরবে তখন গাইড কে অনুসরণ করবেন। কিছু কিছু জায়গা রয়েছে অনেক পিছলা যার কারণ এ অনেক বড় বিপদ এর মুখোমুখি হতে পারেন তাই সাবধানে স্টেপ ফেলাবেন। আমি নিজেই স্লিপ করে পরে গিয়েছিলাম ভাগ্য ভালো ছিল তাই কিছু হয় নি।

#গাইড অথবা ঐখানের মানুষ আপনাকে হরিণ এর জন্য অফার করবে এবং তা অনেক সস্তা আপনি যদি বিবেকবান হয়ে থাকেন তবে এই অফার গ্রহণ করবেন না।

#আমরা যতটুকু পেরেছি কিছু জায়গা পরিষ্কার করেছি এবং নিজেদের বিভিন্ন দ্রব্যের প্যাকেট, পলিথিন সব ব্যাগের ভিতরে ঢুকিয়ে এনেছি।

#এনার্জির জন্য গ্লুকোজ রাখবেন।

#রেমাক্রি কোন বিদ্যুৎ নেই তাই মোবাইল,ক্যামেরা এবং পাওয়ারব্যাংক ফুল চার্জ করে নিয়ে যান।

#এমন কোন জায়গা অতিক্রম করবেন না যেখানে আপনার যাবার অনুমতি নেই।এতে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনতে পারেন।

#যারা অনেক টাকা খরচ করে অনেক দেশে ঘুরতে যাচ্ছেন আমি তাদের কে বলবো যদি বান্দরবানের এই সৌন্দর্য না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই দেখে যান যেকোন দেশে যতই টাকা খরচ করেন এটা দেখতে পাবেন না।

#বান্দরবান ভ্রমণ করে একটি কথা আমার সব চাইতে বেশী মনে পরেছে আর তা হচ্ছে-

বিঃদ্রঃ এটা আমার করা প্রথম পোস্ট তাই অনেক বড় করে লিখে ফেললাম অনেক ভুল থাকতে পারে, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

@@ পরিবেশ সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমার আপনার এবং আমাদের তাই কোথাও ময়লা ফেলবেন না।।ভ্রমণ হোক ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল।

Author

You May Also Like